ধর্মপাশায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে মারধরের অভিযোগে সাংবাদিক কারাগারে
- আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১০:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ১০:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন
ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা ও দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রবি মিয়া (৩০) কে শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের জিংলীগড়া গ্রামের সামনে সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশকে মারধর করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৩১মে দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
ধর্মপাশা থানায় মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে চলতি বছরের ৩১মে বেলা ১২টার দিকে একটি দোকান দখল বেখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পক্ষের লোকজনকে অপর পক্ষের লোকজন আটক করে মারধর করছে। এমন খবর পেয়ে ওইদিন বেলা পৌনে একটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনাস্থলের পাশে অন্য একটি দোকানের শার্টারের ভেতর নিরাপদ হেফাজতে রাখা অপরপক্ষ কর্তৃক আটককৃত চারজনকে দোকান থেকে বের করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে আসার সময় হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের পক্ষ এজাহার নামীয় ২৪জন আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০জন আসামি বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধাদান এবং আটককৃত চারজনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর তারা আক্রমণ করে। পুলিশের ওপর আক্রমণে পুলিশের কনস্টেবল গাজীউল হুদা শামীম, মো. শেখ সেলিম ও বিপ্লব চন্দ্র আহত হন। পরে আটক চারজন ও আহত তিনজন কনস্টেবলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১জুন রাতে ২৪জন জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০জনকে আসামি করে থানার এসআই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেন।
গ্রেফতারের পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে সাংবাদিক রবি মিয়া সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি ওইদিন খবর সংগ্রহ করার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। একটি কুচক্রীমহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যেভাবে এই মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশকে মারধর করার মামলায় ধর্মপাশা থানার তিনজন কনস্টেবল আহত হন। এদের মধ্যে আহত পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) বিপ্লব চন্দ্রের সঙ্গে সাংবাদিক রবি মিয়া ও আরও দুই তিনজনের ৩৪ সেকেন্ডের একটি কথোপকতনের ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত ওই পুলিশ সদস্য বলছেন, মারার আগে তো হেইলা আমারে (সাংবাদিক রবি মিয়া) হেল্প করছে, বুজছেন না কি কইলাম, হেইলা তো আমারে চিনে। হেইলা আমার সামনে দিয়াই গেছে। আমার লগে দাঁড়াইয়াও আছিল। প্রথম সাহায্য করছে, পরে এইলারে আমরা দেহি নাই যেইটা বাস্তব, আমরা পুলিশের মধ্যে কেউ দেহে নাই। এ সময় প্রতিহিংসা শব্দটি উচ্চারিত হতে শোনা যায়।
তবে আহত ওই পুলিশ সদস্যের কাছে এ নিয়ে শনিবার বিকালে বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ধর্মপাশা থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, পুলিশ এসল্ট মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রবি মিয়াক শনিবার সকাল ১১টার দিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওইদিন দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি